প্রচ্ছদ > জাতীয় >

জীবনের ঝুঁকি, তারপরও দড়ি টেনে নদী পরাপার

নাটোর প্রতিনিধি: | 25 July, 2018
img

এবারের বর্ষা মওসুমের শুরুতেই নদী, নালা, খাল, বিল, জলাশয় গুলো পানিতে ভরপুর হতে শুরু করে। তবে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মরা নদীগুলোও যেন পানিতে ভরে গেছে। এই ভরা বর্ষায় নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মানুষ জীবন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন খেয়াঘাটে দড়ি টেনে নদী পারাপার হচ্ছেন। 
পৌর সদরের গুরুদাসপুর বাজার খেয়াঘাটসহ উপজেলার মোল্লা বাজার সংলগ্ন নন্দকুঁজা নদীতে স্ব-উদ্যোগে দড়ি টানাটানি করে নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছেন এলাকাবাসী। এসব খেয়াঘাটে নৌকা থাকলেও নেই মাঝি। খেয়ার নৌকা দুইপারে আনা-নেয়ার জন্য টানিয়ে দেয়া হয়েছে নাইলনের দড়ি। ব্রীজের অভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ যাত্রীরা সেই দড়ি টেনে নদী পারাপারে প্রায় সাত বছর কাটিয়ে ফেলেছেন। এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দশ গ্রামের হাজারও মেহনতি মানুষ। আবার উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিয়াঘাট হাট সংলগ্ন ঘাটে সাধারণ মানুষ দড়ি টেনে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছে। অথচ যাত্রী পারাপারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১২ হাজার টাকা বছর চুক্তিতে ইজারা নেয়া হয়েছে ওই খেয়াঘাট। মো.আসাদুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যাক্তি ঘাটটি ইজারা নিয়েছেন বলে জানা যায়।
যোগাযোগ করলে নৌকার মাঝি আসাদুল ইসলাম জানান, নদীটির উভয়পাশে পাকা সড়ক রয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে ওই সড়ক ধরেই চলাচল করে থাকেন এলাকাবাসী। কেবল ছাত্র-ছাত্রী আর স্থানীয়রা নৌকার ওপর নির্ভরশীল থাকে। আগের মত গ্রামের মানুষ টাকা বা ফসল দেয়না। ফলে ইজারা ১২ হাজার টাকা উঠানোই কঠিন হয়ে যায়। লোক রেখে খেয়া নৌকা পরিচালনা করা সাধ্যের মধ্যে পড়েনা। তাই বাধ্য হয়ে দড়ি টেনে নৌকা পারাপারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাত বছরের শিশু রিয়াদ নামের এক স্কুলছাত্র দড়ি টেনে মোল্লাবাজারের খেয়া নৌকায় নদী পারাপারের সময় পানিতে পড়ে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে প্রতিবেশি মেহেদী হাসান পানিতে ভাসমান রিয়াদের কাঁধে থাকা  স্কুলব্যাগটি টেনে ধরে তার জীবন বাঁচান। এভাবে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ দড়ি টেনে খেয়া নৌকায় নন্দকুঁজা নদী পারাপার হচ্ছে। নদীটির উত্তরপাশে রয়েছে বাজার, মাধ্যমিক ও কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ ঘনবসতিপুর্ন ছয়টি গ্রাম। দক্ষিণপাশে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারিগরি স্কুল এবং মোল্লাবাজার নামে একটি বাজার। তাছাড়া উপজেলা সদর এবং দেশের আভ্যন্তরিন জেলা সদরে যাতায়াত করতে নদী পারাপারের জন্য ওই নৌকাটিই একমাত্র ভরসা।
এ প্রসঙ্গে নদীটির উত্তরপাড়ের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানা জানান, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এখানে একটি ব্রীজ নির্মানের দাবী জানিয়ে স্থানীয় সাংসদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনেক আবেদন নিবেদন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবভিত্তিক কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা। ব্রীজের অভাবে দশ গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন জানমালের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পারাপার হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুস বলেন, উল্লেখিত স্থানে ও নন্দকুজা নদীতে দুই দফা ব্রীজ নির্মানের প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু ঘাটের উভয়পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় ব্রীজের জায়গা সংকট দেখা দেয়। তাই অনুমোদিত ব্রীজটি অন্যত্র নির্মান করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জায়গার সমাধান হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই জায়গায় ব্রীজ নির্মান করা হবে।