প্রচ্ছদ > অর্থনীতি > কৃষি

বোরোর বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষক

cpinews24.com | 21 May, 2018
img

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামে গত বছর ভয়াবহ বন্যার পর এবার মাঠজুড়ে কেবল সোনালি ধানের হাসি। কিন্তু বাম্পার ফলনে প্রথম দিকে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও এখন তারা অনেকটাই হতাশ। কারণ ভালো ফলন হলেও সঠিক দাম না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্তমান বাজারে কাঁচা ধান প্রতি মণ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে ধান বিক্রি করে কোনোমতে খরচ উঠলেও লাভ হচ্ছে না তাদের।

তাদের দাবি, ধানের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করে দিলে ও প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হলে কৃষকরা উপকৃত হতেন।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ১১ হাজার ৮৪২ হেক্টর। তবে আবাদ হয় এক লাখ ১৭ হাজার ৭৪৭ হেক্টরে। ফলন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় চার লাখ ৬১ হাজার ৯১৫ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত ৪৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। তাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলন বেশি আশা করছে কৃষি বিভাগের লোকজন।

এবার হাইব্রিড ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় চার দশমিক ৭৬ মেট্রিক টন, উফশি ব্রি ধান-২৮ তিন দশমিক ৯৩ মেট্রিক টন ও স্থানীয় ধান এক দশমিক ৯৪ মেট্রিক টন।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে ৯টি উপজেলায় আবাদ হয়েছে হাইব্রিড, উফশি ব্রি ধান-২৮ ও স্থানীয় ধান। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮৫ হেক্টর, উলিপুরে ২১ হাজার ৯৭৫ হেক্টর, চিলমারীতে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর, রৌমারীতে ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর, রাজিবপুরে ২ হাজার ৭১০ হেক্টর, ভূরুঙ্গামারীতে ১৬ হাজার ২৭৫ হেক্টর, নাগেশ্বরীতে ২১ হাজার ৮১২ হেক্টর, ফুলবাড়িতে ১১ হাজার ৬৫০ হেক্টর ও রাজারহাট উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। ধানের জমি দেখে যে কারোই চোখ জুড়িয়ে যাবার মতো অবস্থা।

উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় গ্রামের কৃষকরা জানান, বোরো মৌসুমে ফলন হয়েছে একর প্রতি ৬০ থেকে ৬৫ মণ ধান। বর্তমানে ৬০০ থেকে সাড়ে ৬৫০ টাকার বাজার দরে খরচ বাদ দিলে লাভ বেশি একটা থাকছে না।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ফলন ঘরে উঠানোর জন্য জমিতে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন শ্রমিকরা। এতে একজন পুরুষ শ্রমিককে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং নারী শ্রমিককে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকরা উপকৃত হলেও কৃষকের খরচ বেড়ে যাচ্ছে অনেক। যে কারণে তাদের আসলে কোনো লাভ হচ্ছে না।