প্রচ্ছদ > জেলা সংবাদ > ঢাকা

মিতু হত্যার ২ বছর : শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন

www.cpinews24.com | 05 June, 2018
img

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর হত্যা দুবছর পূর্ণ হলো আজ। তবে এ দুবছরেও হত্যার কারণ উদ্ঘটন করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার তদন্তে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, দু-একদিনের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।

মিতু হত্যামামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেছেন, আদালতে প্রতিবেদন জমা দিলেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। এর আগে কোনো কিছু বলা যাবে না। এই মামলার ভালো অগ্রগতি আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গত ২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় নিজ বাসা থেকে পুত্রসন্তানকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এই হত্যাকাণ্ডের এক মাসের মধ্যেই পুলিশ হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে দুজন পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। তবে পুলিশের দাবি মতে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল কামরুল ইসলাম শিকদার প্রকাশ মুছা। এই মুছাকে পুলিশ দুই বছরেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে মুছার পরিবারের দাবি, মুছাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

মিতু হত্যা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার জানান, মিতু হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মুছা এবং সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অপর এক আসামি ছাড়া অন্য সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু মুছাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় এই হত্যারহস্য এখনো পুরোপুরি উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। তবে যেহেতু হত্যাকাণ্ডের দুই বছর হয়ে গেছে তাই আর অপেক্ষা না করে দ্রুত সময়ে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মিতু হত্যাকাণ্ডের পর মিতুর পিতা এই হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে বিভিন্নভাবে অভিযোগ করে এলেও পুলিশ দীর্ঘ তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তারের কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি বলে জানান পুলিশ কমিশনার। এর ফলে বাবুল আক্তারকে মামলার বাদি হিসেবে উল্লেখ করেই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন মিতু হত্যাকাণ্ডের তিন দিনের মধ্যেই গোয়েন্দা পুলিশ হাটহাজারি উপজেলা থেকে আবু নসর গুন্নু ও ১১ জুন বায়েজিদ বোস্তামী থানার শীতল ঝর্ণা এলাকা থেকে শাহ জামান ওরফে রবিন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

২৬ জুন মো. আনোয়ার ও মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম নামের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে মিতু হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আদালতে। এরপরই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের যোগানদাতা এহেতাশামুল হক ভোলা ও তার সহযোগী মো. মনিরকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

১ জুলাই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সরবরাহ করার অভিযোগে মুছার ভাই সাইদুল আলম শিকদার প্রকাশ সাক্কু ও শাহজাহান নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সব আসামির মধ্যে আবু নসুর গুন্নু, শাহ জামান ওরফে রবিন ও সাইদুল জামিনে আছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি কামরুল সিকদার মুছাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার ধারাবাহিকতায় বেশ কয়েক দফা পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকেও ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পরই পুলিশের চাকরি হারান বাবুল আক্তার। বর্তমানে তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করছেন। স্ত্রী হারানোর পর তিনি দুই সন্তান নিয়ে একাকী বসবাস করছেন।